Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বড় ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তেলের বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং দামের লাগাম টানতে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘ফক্স বিজনেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব জরুরি মজুত (ইমার্জেন্সি রিজার্ভ) থেকেও তেল বাজারে ছাড়তে পারে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, বর্তমানে মার্কিন প্রশাসনের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, যা মূলত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের অন্যতম বৃহৎ ‘সাউথ পারস’ গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে। এর পাল্টা জবাবে তেহরানও এই অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় আক্রমণ চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘ভান্ডা ইনসাইটস’-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড তেল (ওমান ও দুবাই ক্রুড) এরই মধ্যে ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি জানান, এখন তেলের দাম কতটা বাড়বে তা প্রায় পুরোটাই নির্ভর করছে ‘হরমুজ প্রণালি’ কতদিন বন্ধ থাকে তার ওপর। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউরোপের বাজারেও। যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭১ দশমিক ৩৪ পেন্স (২.২৯ ডলার) ছাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর দেশটিতে গ্যাসের দামে এমন ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতি আর দেখা যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিলের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করতে পারবে কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

মানবকণ্ঠ/ডিআর