দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। তেলের সরবরাহ নিয়ে জনমনে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে কৃত্রিম সংকটের কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিতে দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এক বিবৃতিতে জানান, দেশে ডিজেল, পেট্রল, অকটেনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে তেল কিনে হলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নতুন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসা শুরু করেছে, যা নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’
অন্যদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান মজুদের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল মজুত আছে।
এর বাইরে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আরও প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের অপেক্ষায় রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান মজুদ দিয়ে নতুন কোনো সরবরাহ ছাড়াই আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের স্বাভাবিক চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। যেহেতু আমদানীকৃত তেলবাহী জাহাজগুলো পাইপলাইনে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বন্দরে ভিড়ছে, তাই সরবরাহের ধারাবাহিকতায় কোনো ছেদ পড়ার আশঙ্কা নেই।
এমতাবস্থায় কোনো প্রকার ভিত্তিহীন গুজব বা অপপ্রচারে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টা চালাতে পারে। দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সঠিক তথ্যের জন্য কেবল সরকারি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




Comments