বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশসহ মোট ছয়টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো ধরনের হামলা চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান। বাকি পাঁচটি দেশ হলো— ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরাক।
বুধবার (২৫ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য অনেক রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, যাদের ইরান ‘মিত্র’ হিসেবে বিবেচনা করে।
আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমি যদ্দুর জানি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো হামলা চালানো হবে না। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত সমন্বয় হচ্ছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও এই ছয় দেশের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে বিশেষ ‘নিরাপত্তা প্যাসেজ’ পাবে।”
তবে মিত্র দেশগুলোর জাহাজের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইরান। আরাগচি জানান, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
উল্লেখ্য, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা শুরুর পর ইরান এই জলপথে অবরোধ জারি করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং অনেক দেশ সংকটে পড়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, এই অবরোধ কেবল ‘শত্রু’ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের ওপর কার্যকর হবে।
এদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই জলপথ ব্যবহারের জন্য সব বিদেশি জাহাজকে ‘টোল’ বা কর দিতে হবে— এমন একটি আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইতোমধ্যে আইনের খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই আইন পাস হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সব বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশ-সহ মোট ৬টি দেশের জাহাজে কখনও হামলা করা হবে না। বাকি ৫টি দেশ হলো ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাক।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি; সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। হরমুজে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে অনেক রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেক দেশকে আমরা মিত্র বলে বিবেচনা করি।”
“আমি যদ্দুর জানি, হরমুজ প্রণালিতে ৬টি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইআরজিসি (ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস)। এই দেশগুলো হলো চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক, ভারত এবং বাংলাদেশ। এসব দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে সম্মতিও জানিয়েছে। এই ছয় দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সবসময়, এমনকি যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা প্যাসেজ পাবে।”
প্রসঙ্গত, জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুবই গুরুত্বপূর্ন। জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারের এক পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান, ফলে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরহারে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্বের বহু দেশ ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে।
ইরান অবশ্য এর আগেও বলেছে যে এই অবরোধ শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর প্রযোজ্য হবে। ‘অশত্রু’ কিংবা ‘মিত্রভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জাহাজকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে কোনো বাধা দেওয়া হবে না।
তবে মিত্রদেশগুলোর জাহাজে হামলা না করলেও হরমুজে এসব দেশের জাহাজ চলাচলে কিছু নিয়ম জারি করেছে ইরান। এর মধ্যে প্রধান নিয়মটি হলো— হরমুজে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে ইচ্ছুক সব বিদেশি জাহাজকে অবশ্যই টোল দিতে হবে— এমন একটি আইন প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। ইতোমধ্যে সেই আইনের খসড়া তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments