Image description

মোংলায় যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রতিষ্ঠানের ৩টি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের সঙ্গে অবৈধভাবে মজুদকৃত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল পাওয়ার ঘটনায় মোংলা ডিপো থেকে তেল সরবরাহ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে ডিপোর ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং বাগেরহাট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন প্রতিষ্ঠানটির ৩টি তেলের ট্যাংকে সংরক্ষিত জ্বালানি তেলের পরিমাণ সরেজমিনে পরিমাপ এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অবৈধভাবে মজুদকৃত প্রায় ১২ লাখ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা মূল্যের ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি তেল মজুত পাওয়া যায়।

মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন বা যমুনা অয়েল কোম্পানির মোংলা ডিপো থেকে মূলত বাগেরহাট, খুলনা, যশোরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

রোববার এই অভিযনের বিষয়ে প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন অভিযান পরিচালনাকারী বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) অনুপ দাস, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রবীর হীরা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) রাইয়ান আলম, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বানৌজা মোংলার এসএইচএ আবুল কাশেম, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের লেফটেন্যান্ট বিএন খালিদ সাইফুল্লাহ, যমুনা অয়েল মোংলার গেজারম্যান মো. জাহিদুর রহমান, বানৌজা মোংলার চিফ পোর্ট অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মোংলা থানার এসআই মো. ইমামুল ইসলাম ও যমুনা অয়েলের কম্পিউটার অপারেটর (অস্থায়ী) মো. ফারুক হোসাইন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বরা হয়েছে, ১ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৭ লিটার, যা কাগজপত্রের তুলনায় ৯৩২ লিটার বেশি। ৯ নম্বর ট্যাংকে পাওয়া গেছে ২৪ লাখ ২০ হাজার ৪৯৫ লিটার, যা নথিভুক্ত পরিমাণের চেয়ে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার বেশি। অন্যদিকে ১৪ নম্বর ট্যাংকে মজুত পাওয়া গেছে ১২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫৫ লিটার, যা কাগজপত্রের তুলনায় ১ হাজার ১৩৭ লিটার কম।

সব মিলিয়ে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেলের হিসাবে গরমিল পেয়েছে তারা।