সিএনএন-এর বিশ্লেষণ
সৌদি ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমান ধসিয়ে আমেরিকার ‘চোখ’ই নষ্ট করে দিয়েছে ইরান
সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমান ধ্বংস হয়েছে। এই একটি বিমান হারিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের গতিবিধি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘অন্ধ’ হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। একে মার্কিন নজরদারি সক্ষমতার ওপর এক ‘মারাত্মক ধাক্কা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানটির লেজের অংশ পুরোপুরি ভেঙে গেছে এবং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ঘূর্ণায়মান রাডার ডোমটি মাটিতে পড়ে আছে।
এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা ‘এডাব্লিউএসিএস’ প্রযুক্তির এই বিমানটিকে বলা হয় যুদ্ধক্ষেত্রের ‘কোয়ার্টারব্যাক’। এটি আকাশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমাইল এলাকা একযোগে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এটি একসঙ্গে অন্তত ৬০০টি লক্ষ্যবস্তু—যেমন ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, এমনকি স্থলযুদ্ধের ট্যাংকও শনাক্ত করতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, একটি স্থলভিত্তিক রাডার কোনো ড্রোন শনাক্ত করতে যে সময় নেয়, ই-৩ সেন্ট্রি তার চেয়ে অন্তত ৮৫ মিনিট আগে সেটি শনাক্ত করতে পারে। ফলে এটি ধ্বংস হওয়ায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ল।
মার্কিন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্নেল সেড্রিক লেইটন সিএনএন-কে বলেন, “মাটিতে থাকা অবস্থায় একটি এডাব্লিউএসিএস ধ্বংস হওয়া মানে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান হয়তো এই নিখুঁত হামলার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে উচ্চমানের স্যাটেলাইট ছবি বা গোয়েন্দা সহায়তা পেয়েছে।
হামলায় শুধু বিমানটিই ধ্বংস হয়নি, অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাও আহত হয়েছেন। এছাড়া একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৯৮ সালের হিসেবে একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের দাম ছিল ২৭০ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান মূল্যে প্রায় ৫৪০ মিলিয়ন ডলারের (সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি) সমান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৭টি এই ধরনের বিমান অবশিষ্ট রয়েছে।
স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো মনে করেন, ইরান অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আমেরিকার ‘চোখ’ তথা রাডার ও নজরদারি ব্যবস্থার ওপর হামলা চালাচ্ছে। এটি সরাসরি সংঘাতের বদলে মার্কিন সক্ষমতাকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি কৌশল।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা এই পুরোনো কিন্তু শক্তিশালী বিমান বহরের ওপর এই আঘাত ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের সামরিক সংকটে ফেলে দিল। এখন দেখার বিষয়, এই বিশাল প্রতিরক্ষা ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে পূরণ করে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments