চীনের সহযোগিতার ঘোষণা, হরমুজ বন্ধ রেখেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চান ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ শেষ করতে নতুন কৌশলের পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালির বড় অংশ বন্ধ থাকলেও যুদ্ধ বন্ধে তিনি প্রস্তুত বলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রণালিটি পুনরায় খোলার সামরিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে ভেবে ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে বিধ্বস্ত করার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন। পরবর্তীতে কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খোলার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যদি কোনো কার্যকর চুক্তি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে অবিলম্বে খুলে দেওয়া না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেলকূপ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং খার্গ দ্বীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেবে। এদিকে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে; যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এই বৈশ্বিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং এবং পাকিস্তান ইরানের বিষয়ে তাদের কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার বর্তমানে বেইজিং সফরে রয়েছেন। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ বা মধ্যস্থতা আয়োজন করতে প্রস্তুত। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, দুই দেশ ইরান পরিস্থিতির বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় নতুন প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে।
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ধারাবাহিক হামলার ফলে ইরানের নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য আলোচনার পথকে কিছুটা জটিল করে তুলছে। সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে কয়েক হাজার সৈন্য মোতায়েন করেছে, যা মূলত তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments