Image description

লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় দালালচক্রের নির্যাতনে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ১৫ দিন আগে একইভাবে মারা যায় আরও দুই যুবক। তাদের সবার বাড়ি মাদারীপুরে। 

নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনরা। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

নিহত জহিরুল ইসলাম (৩০) মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধুয়াসার গ্রামের সামচু আকনের ছেলে। দেশে কৃষিকাজ করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার চলছিল। তবে ভাগ্যের পরিবর্তনের আশায় দালালের খপ্পড়ে পড়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারাতে হয় তাকে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশের ধুলগ্রাম এলাকার মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য হানিফ মাতুব্বরের ছেলে জাকির মাতুব্বরের প্রলোভনে পড়ে প্রায় পাঁচ মাস আগে ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন জহিরুল। কিন্তু দালালচক্র তাকে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন।

একপর্যায়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এরপরও নির্যাতন বন্ধ না হয়ে বরং আরও বাড়তে থাকে। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জহিরুল এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে, প্রায় ১৫ দিন আগে তার মৃত্যু হলেও বিষয়টি গোপন রাখে দালালচক্র। পরে লিবিয়ায় অবস্থানরত একই গ্রামের কয়েকজন যুবকের মাধ্যমে পরিবার এ খবর জানতে পারে।

জহিরুলের স্ত্রী সাথি আক্তার বলেন, “আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমাদের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে, সেই টাকাও ফেরত চাই। সরকারের কাছে আকুতি জানাই, আমার স্বামীর মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।”

অভিযুক্ত জাকির মাতুব্বরের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেশী পারভীন বেগম জানান, গত রমজান মাসে জাকিরের পরিবার বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এরপর তাদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, জাকির বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, লিবিয়ার বন্দিশালায় এ নিয়ে তিন যুবকের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে একইভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার মৃত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার এবং কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার মারা যান। 

এছাড়া জহিরুলের সঙ্গে একই ঘটনায় নির্যাতনের শিকার একই উপজেলার মধ্য ধুলগ্রামের সৈয়দ আসলামের ছেলে ইমামুল এখনও নিখোঁজ রয়েছে।