দেশের বিচার বিভাগের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথে বড় মাইলফলক অর্জিত হলো। বিচার বিভাগের জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় গঠনের চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন। রায়ে সরকারকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একই সঙ্গে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগ থেকে সরিয়ে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে মাসদার হোসেন ও তার সহকর্মীরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার দাবিতে মামলা করেন। ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দিলেও দীর্ঘ ২৬ বছরেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ২০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ- ২০২৫’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তখন জানিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মাসদার হোসেন মামলার রায় পরিপূর্ণ বাস্তবায়িত হলো এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার শেষ ধাপ সম্পন্ন হলো।
হাইকোর্টের আজকের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের ফলে বিচার বিভাগ এখন থেকে প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক বিষয়ে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে পরিচালিত হবে, যা বিচারিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments