বাংলাদেশের ক্রিকেটে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়। নানা নাটকীয়তা আর তদন্তের পর অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) শীর্ষ পদে আসীন হলেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে বিসিবির নতুন সভাপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণার পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বোর্ড কার্যালয়ে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গত নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির প্রমাণ মেলায় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বোর্ড ছাড়তে শুরু করেন বিদায়ী কমিটির সদস্যরা। আমিনুল ইসলাম বুলবুল, পরিচালক খালেদ মাসুদ পাইলট এবং নাজমুল আবেদীন ফাহিমরা বিসিবি কার্যালয় ত্যাগ করার কিছুক্ষণ পরই সেখানে পৌঁছান তামিম ইকবাল।
সন্ধ্যায় তামিম ইকবাল যখন বিসিবি প্রাঙ্গণে পা রাখেন, তখন তাকে স্লোগান আর মিছিলে বরণ করে নেন বিপুল সংখ্যক ক্রিকেট অনুরাগী। বিসিবি কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতির চেয়ারে বসার মধ্য দিয়ে তিন মাসের জন্য গঠিত অ্যাডহক কমিটির যাত্রা শুরু হয়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তামিম ইকবাল কাজে নেমে পড়েছেন। তিনি বোর্ডের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছোট ছোট বৈঠক সেরে নেন এবং একই দিনে অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভাও আহ্বান করেন। বিসিবির স্থবিরতা কাটিয়ে ক্রিকেটে গতি ফেরানোই এখন তার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গত নির্বাচনে ‘ই-ভোট’ জালিয়াতি এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বিসিবির স্বায়ত্তশাসন নষ্ট করা হয়েছিল। তামিমের নেতৃত্বে গঠিত এই ১১ সদস্যের কমিটি সেই ভাবমূর্তি উদ্ধারে কাজ করবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী তিন মাস পর অনুষ্ঠিতব্য মূল নির্বাচনেও তামিম ইকবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
এদিকে বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বা তার কমিটির অন্য পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments