ইরানকে অস্ত্র জোগান দেওয়া দেশগুলোর ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, এই যুদ্ধে যেসব দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে, তাদের ওপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ (আমদানি শুল্ক) আরোপ করা হবে। এই ট্যারিফের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় বা মওকুফ দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা—যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া ও চীন গোপনে ইরানকে অস্ত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণা মূলত ওই দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর কঠোর হলেও ইরানের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় সুর দেখা গেছে ট্রাম্পের বার্তায়। তিনি বলেন, “ট্যারিফ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তির বিষয়ে আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।” ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে ইরানের ‘শাসনব্যবস্থা বদলে গেছে’ এবং তারা আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের চেষ্টা চালাবে না। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা শর্তের অধিকাংশের সঙ্গেই ইরান একমত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, এই যুদ্ধবিরতি কতক্ষণ স্থায়ী হবে তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। চুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের লাভান দ্বীপের একটি তেল শোধনাগারে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের দাবি জানালেও ইসরায়েল তা মানতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, তা আবারও ফিকে হয়ে আসছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments