আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায়: ২ পুলিশের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় প্রদান করেন।
আদালত আবু সাঈদকে সরাসরি গুলি করে হত্যার দায়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের দুই সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও নির্দেশনার দায়ে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব। এছাড়া মামলার বাকি ২৮ জন আসামিকে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
রায়ে আদালত বলেন, নিরস্ত্র ছাত্রের ওপর পুলিশের এমন বর্বরোচিত হামলা কেবল আইনত অপরাধ নয়, বরং এটি মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ। আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার সেই দৃশ্য বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে দেশে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন আবু সাঈদ। তাঁর শাহাদাতের পর আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। আজ সেই বীর শহীদের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments