Image description

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। 

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

যুগ্মসচিব জানান, বর্তমানে দেশে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত উৎপাদন বা আমদানি মূল্য হওয়া উচিত প্রায় ১৫৫ টাকা। লিটারপ্রতি এই ৫৫ টাকা লোকসান গুনতে গিয়ে সরকারকে বিশাল অঙ্কের এই ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। তবে জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দেশে কোনো জ্বালানি ঘাটতি নেই। অযথা মজুত করার প্রয়োজন নেই; নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রয়েছে।”

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে সরকারের কঠোর তদারকি কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, গতকালই সারা দেশে ৩৬১টি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১৯২টি মামলা দায়ের এবং ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় দুজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল।

বর্তমানে দেশের মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৬৮২ টন পেট্রোল মজুত রয়েছে। নিয়মিত আমদানি প্রক্রিয়া সচল থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো ধরনের সংকট হবে না।”

অবৈধ মজুতের পেছনে কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর