Image description

মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমশক্তির গতিশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এই উচ্চপর্যায়ের সভায় বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে নতুন নীতিমালার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বাংলাদেশের মানবসম্পদকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা।” এ সময় তিনি মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধি এবং মালয়েশীয় সমাজে তাদের সুসংগঠিত একীকরণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মাহদী আমিন আরও বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন। দুই দেশের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব এবং যৌথ শিক্ষা প্রকল্প গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এই প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ১১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। বৈঠকে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর একাডেমিক ও আর্থ-সামাজিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেন যে, মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশি স্নাতকদের জন্য পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে তারা দেশে ফিরে এসে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর