বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী সরকারি বাসভবন নেই। এই শূন্যতা পূরণে এবং সরকারপ্রধানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের স্থায়ী বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই বাসভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বাসভবনের মাটির নিচে শক্তিশালী ‘বাংকার’ এবং জরুরি যাতায়াতের জন্য বিশেষ ‘টানেল’ বা সুড়ঙ্গ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নতুন এই বাসভবনের জন্য রাজধানীর হেয়ার রোড, মিন্টো রোড অথবা বেইলী রোড এলাকাকে বিবেচনায় রেখেছে। বিশেষ করে সচিবালয়ের সঙ্গে যেন দ্রুত ও নির্বিঘ্নে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, "আমরা হেড অব আর্কিটেক্টের সঙ্গে আলোচনা করছি। মিন্টো রোড বা হেয়ার রোড এলাকার পাঁচ-ছয়টি ভবন অধিগ্রহণ করে এই বাসভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বহির্বিশ্বের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো সকল আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।"
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ‘গণভবন’-কে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বর্তমানে সপরিবারে গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে থাকছেন, যা একসময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments