নয়ডায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন, পাকিস্তানি যোগসূত্র খুঁজছে বিজেপি
ভারতের উত্তরপ্রদেশের শিল্পনগরী নয়ডায় বেতন বৃদ্ধি ও উন্নত কাজের পরিবেশের দাবিতে শুরু হওয়া শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। গত কয়েক দিনে শহরের প্রায় ৮০টি স্থানে অন্তত ৪০ হাজার শ্রমিকের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সহিংস এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সমাজবাদী পার্টি এবং কংগ্রেস রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এই পরিস্থিতিকে সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সরকার এই বিক্ষোভের বিষয়ে আগে থেকে জানলেও তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৭ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হবে বলেও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, এটি বঞ্চিত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের উপেক্ষা ও আর্তনাদ। বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে শ্রমিকরা ঋণের জালে ডুবে যাচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা অজয় রাই পুলিশের টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আটককৃতদের মুক্তির দাবি করেছেন।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই অস্থিরতার পেছনে ‘বিদেশি হাত’ এবং ‘পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের’ ষড়যন্ত্র থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর দাবি করেছেন, সাধারণ শ্রমিকদের অরাজকতায় উসকানি দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও শিল্পক্ষেত্রে অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়ডা পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মী সিং দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভের আড়ালে ‘অতি-বামপন্থী’ একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করছে যারা বিদেশি তহবিল পেয়ে থাকতে পারে।
বিক্ষোভের মুখে উত্তরপ্রদেশ সরকার অদক্ষ, আধা-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ২১ শতাংশ বৃদ্ধির একটি অন্তর্বর্তীকালীন ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই মজুরি ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে অদক্ষ শ্রমিকদের বেতন ১৩ হাজার ৬৯০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ১৬ হাজার ৮৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে শ্রমিকদের ২০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবি সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে।
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন এবং চলতি বছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতিতে একটি বড় সমীকরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments