ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রশাসন ভবনের সামনে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনে তালা দিলে উপাচার্য ও প্রক্টরসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। একইসঙ্গে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিলে দুপুর ১টা ও ২টার সূচির কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাস আটকা পড়ে।
এ সময় শিক্ষক রুনা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচার, রুনার পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ, একজন সদস্যের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একটি হল রুনার নামে নামকরণ এবং বিভাগের চলমান সব সংকট নিরসনের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ ও ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা আন্দোলনস্থলে এসে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানালে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন।
ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফজলুর এখনও কথা বলতে না পারায় আমরা তার জবানবন্দি নিতে পারিনি। এছাড়া মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ধরতে আমরা একাধিকবার বিভিন্ন লোকেশনে অভিযান চালিয়েও তাদেরকে পাইনি। এছাড়া তাদের বিদেশগমন ঠেকাতে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। র্যাবের মাধ্যমেও তাদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি দ্রুতই তাদের রিপোর্ট দেবেন। বিভাগের শিক্ষক সংকট নিরসনের জন্য খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং রুনার নামে একটি হলের নামকরণের প্রস্তাব আমি নিজেই করব। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হত্যার পর আইনানুগভাবে যতটুকু প্রাপ্য, তার জন্য শিক্ষিকার পরিবার আবেদন করেছে। আমরা তা পূরণ করব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া হলে রুনার স্বামীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।




Comments