Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ‘আজই’ একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সাংবাদিক মারিয়া বার্টিরোমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, এই চুক্তি আজই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বরাবরের মতো এবারও তিনি ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিতে ভোলেননি। ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি কোনও চুক্তি সই না হয়, তবে আমি ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলো উড়িয়ে দেব।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর বা নতুন দফার আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তানের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, তেহরান দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে আগ্রহী হলেও তারা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

এর আগে রোববার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এই আলোচনা সফল করতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (নিরাপত্তা শঙ্কা থাকলেও প্রতিনিধি দলে নাম আছে), বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারসহ উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ সফর করছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার দীর্ঘ চার দশক পর গত ১১-১২ এপ্রিল পাকিস্তানে প্রথমবারের মতো সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই আলোচনা কোনও চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হলেও আজকের সম্ভাব্য বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, চরম উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার পরিবেশ ও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন পুরো বিশ্বের নজর ইসলামাবাদের দিকে—সেখানে আজ সত্যিই কোনও স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল।

সূত্র: আনাদোলু।

মানবকণ্ঠ/আরআই