Image description

বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। রোগটির দ্রুত বিস্তার এবং ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারকে একগুচ্ছ জরুরি পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘের এই সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও এই সতর্কবার্তা দেয়। গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ‘ন্যাশনাল আইএইচআর ফোকাল পয়েন্ট’ থেকে সরবরাহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের আটটি বিভাগের ৫৮টি জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। ডব্লিউএইচও-এর মতে, দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি অনিয়মিত থাকা এবং গত অর্থবছরে এমআর টিকার ঘাটতির ফলে বড় ধরনের ‘রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি’ (Immunity Gap) তৈরি হয়েছে। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই হয় সম্পূর্ণ টিকা নেয়নি, অথবা টিকার মাত্র একটি ডোজ নিয়েছে।

ডব্লিউএইচও-এর তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৯০ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৬৬ জন। বর্তমানে দেশের ৫৮টি জেলায় এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি।

সংস্থাটি বলছে, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত এবং মানুষের অবাধ যাতায়াতের কারণে আন্তঃসীমান্ত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে যশোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলই এখন হামের ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ রয়েছে, তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি ‘মাঝারি’ পর্যায়ের।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডব্লিউএইচও বেশ কিছু জরুরি সুপারিশ করেছে:
১. দেশের অন্তত ৯৫ শতাংশ অঞ্চলকে অবিলম্বে টিকার আওতায় আনতে হবে।
২. সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে যাতে বিদেশ থেকে আসা সংক্রমিত ব্যক্তি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
৩. হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
৪. স্বাস্থ্যকর্মী, পর্যটন এবং পরিবহন খাতের কর্মীদের মতো সম্মুখসারির ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীকে দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ডব্লিউএইচও-এর এই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারকে দ্রুত দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান ও জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার করতে হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর