Image description

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার ইসলামাবাদে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে পৃথক পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো কিছু প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যেখানে পাকিস্তান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারি টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আঞ্চলিক উন্নয়নের পাশাপাশি দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। বৈঠকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ইরানে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আরাঘচির এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো কিছু প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাব পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া। 

রয়টার্স জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কাছে ওয়াশিংটনের দাবির বিষয়ে ইরানের আপত্তি এবং তেহরানের নিজস্ব শর্তগুলো তুলে ধরেছেন।

উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধ নিয়ে এক নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তান একটি মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে।

সফর প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ইরানের নেই। 

তিনি বলেন, "ইরানের পর্যবেক্ষণগুলো কেবল পাকিস্তানকেই জানানো হবে।" এছাড়া আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানিয়েছেন যে, ইরানের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।

শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানো আরাঘচি পাকিস্তান সফরের পর ওমান ও রাশিয়া সফরে যাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যেই তাঁর এই ঝটিকা সফর বলে মনে করা হচ্ছে।