ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক হিলটন হোটেলে আয়োজিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (WHCA) বার্ষিক নৈশভোজে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের দ্রুত অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গোলাগুলির ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের একটি মন্তব্য এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প মঞ্চে ওঠার ঠিক আগে সাংবাদিকদের লেভিট বলেছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট আজ ‘লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত’।
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের বলে দিচ্ছি, আজকের ভাষণটি হবে একেবারে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্পের মতো। এটি মজাদার ও বিনোদনমূলক হবে।”
তবে সবচেয়ে রহস্যজনক ছিল তাঁর পরের বাক্যটি। তিনি বলেন, “আজ রাতে কিছু গুলি ছোড়া হবে (shots will be fired)। সবাই দেখবেন। এটা সত্যিই দারুণ হবে।”
যদিও ধারণা করা হচ্ছে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্যের তীক্ষ্ণতাকে বোঝাতে ‘শটস ফায়ার্ড’ রূপকটি ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাস্তবে গুলির শব্দ শোনা যাওয়ায় উপস্থিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রাত সাড়ে ৮টার পর যখন গুলির শব্দ শোনা যায়, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঞ্চে সিবিএস রিপোর্টার ও ডব্লিউএইচসিএ-র প্রেসিডেন্ট উইজিয়া জিয়াং-এর পাশে বসা ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যেই সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা মঞ্চে উঠে প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে ঘিরে ধরেন এবং বলরুম থেকে বের করে নিয়ে যান।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, হোটেলের প্রধান স্ক্রিনিং এলাকার কাছে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত এক সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট, ফার্স্ট লেডি এবং তাঁর সাথে থাকা অন্য সকল ভিআইপি নিরাপদ আছেন।
ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ পোস্ট করে জানান যে, তিনি পুনরায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। তিনি লেখেন, “ডিসিতে বেশ একটি সন্ধ্যা কাটল। সিক্রেট সার্ভিস ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা চমৎকার সাহসিকতার সাথে কাজ করেছে। হামলাকারী ধরা পড়েছে। আমি অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করেছিলাম, কিন্তু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নির্দেশনাই চূড়ান্ত।”
রাত পৌনে ১০টা নাগাদ ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফিরে যান বলে নিশ্চিত করেছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জিয়াং জানিয়েছেন, এই অনুষ্ঠানটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পুনরায় আয়োজন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এবারের নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট দম্পতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট কেনেডি জুনিয়র, পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রশাসক লি জেলডিন এবং পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি।
দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয় কোনো হামলার ঝুঁকি। এর আগে পেনসিলভেনিয়ার বাটলারের নির্বাচনী সভায় এক বন্দুকধারীর গুলি ট্রাম্পের কান ছুঁয়ে গিয়েছিল। এবারের ঘটনাটি ১৯৮১ সালের জন হিঙ্কলি কর্তৃক প্রেসিডেন্ট রিগানকে হত্যাচেষ্টার সেই একই হোটেল প্রাঙ্গণে ঘটায় তা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




Comments