কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডে চার সন্দেহভাজনকে আটক করেছে র্যাব। একই সঙ্গে পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে।
কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যার ঘটনায় নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে র্যাব-১১। আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, শনিবার রাত থেকে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছি এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।
নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
কাস্টমস কমিশনার আবদুল মান্নান জানান, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সবশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন তিনি। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।




Comments