Image description

দেশজুড়ে আবারও তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সারা দেশে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই দুর্যোগে দেশের পাঁচটি বিভাগ সবথেকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও কিশোরগঞ্জ জেলায় অতি ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণসহ ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই এসব এলাকার আকাশ মেঘলা রয়েছে এবং অনেক স্থানে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে।

সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল, শরিয়তপুর ও মাদারীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে আকাশ উত্তাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী ও কুমিল্লার আকাশও দুর্যোগপূর্ণ থাকতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চল চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও বান্দরবানেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতেও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, যশোর, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়াসহ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে দমকা হাওয়ার বেগ বেশি হতে পারে। শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতের আশঙ্কায় এসব এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ চলাকালীন সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ বা বড় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া এবং আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই