Image description

তাড়াহুড়া বা লুকোচুরি না করলে কি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অন্তর্বর্তী সরকারের করা বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে এখন এত কথা হতো? প্রশ্নটি সিম্পল। কিন্তু, জবাব দেয়ার পালায় যাচ্ছে না সরকারি দল বিএনপি বা বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের সমমনারা। চুক্তির বিপক্ষে মাঠ গরমের চেষ্টা করছে বামপন্থি কিছু দল। এ বিষয়টিও প্রশ্নবোধক। বাকিরা সরব নয় কেন? এর জবাব দিয়ে রেখেছেন ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রভাবশালী উপদেষ্টা, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তিনি এ চুক্তিতে গোপনীয়তার কথা অস্বীকার করে প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপি-জামায়াত দুদলই এ চুক্তির বিষয়টি অবহিত। হতে পারে, এ কারণে দল দুটি চুক্তি নিয়ে বিতর্কে শরিক হচ্ছে না। চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে।  চুক্তির বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে শুল্ক হ্রাস, অ-শুল্ক বাধা অপসারণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, শ্রম অধিকার, পরিবেশ সুরক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা। তা জানাজানি হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে। 

এরপর চুক্তির অনুলিপি মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। তখনও এ নিয়ে কথামালা আজকের পর্যায়ে আসেনি। নির্বাচনের সময় বা নির্বাচনের পরও তেমন আলোচনায় আসেনি। বিপুল ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় বসার পরও নয়। কথার ধুম জমেছে গত কদিন। চুক্তিবিরোধী পক্ষের বযান অনেক। বলা হচ্ছে, এ চুক্তির বিষয়গুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সীমাহীন নিয়ন্ত্রণ। 

ট্রাম্প প্রশাসনের অনুগ্রহ পাওয়ার আশায় বাংলাদেশকে সরাসরি মার্কিন প্রভাব বলয়ে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। সঙ্গে আরো কতো কথার তেজ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের গোপন চুক্তি বা চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি নেয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’। বিদ্যমান সব চুক্তিই প্রকাশ করা হয়েছে। 

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও এ চুক্তিটি সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার জাতিকে অবহিত করার প্রয়োজন মনে করেনি। এমনকি জাতীয় সংসদেও এ চুক্তির ওপর সরকারি বা বিরোধী দল কোনো কথা বলেনি। এ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ সব মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেবে অর্থাৎ, কার্যত বাংলাদেশের বাজারে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে। এ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে হলে বাংলাদেশকে মার্কিন তুলা ও সুতা ব্যবহার করতে হবে। বর্তমানে মার্কিন বাজারে পণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্কের ওপর বাড়তি ১৯ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’সহ মোট ৩৪ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

বাংলাদেশ মূলত চীন, ভারত এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে তুলামূলকভাবে কম দামে তুলা আমদানি করে। আমেরিকান তুলার দাম বরাবরই এসব দেশের তুলনায় প্রতি কেজিতে শূন্য দশমিক ১০ থেকে শূন্য দশমিক ৩০ ডলার বেশি। বিকেএমইর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কাছাকাছি দেশগুলোর সস্তা সাপ্লাইয়ার ছেড়ে দীর্ঘ দূরত্বের (যুক্তরাষ্ট্রের) ব্যয়বহুল সাপ্লাইয়ার থেকে তুলা কেনার বাধ্যবাধকতায় শেষ পর্যন্ত যে পরিমাণ শুল্ক ছাড়ের সুবিধা দেখানো হয়েছে, তাতে অনেক বেশি অর্থের বহিঃপ্রবাহ বা ব্যয় বাড়বে। 

এ চুক্তির আওতায় আমেরিকা থেকে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে হবে। ফ্রান্সের কাছ থেকে যে এয়ারবাস কেনার কথা ছিল, সেটা কেনা যাবে না। ১৫ বছরে ১৫শ কোটি ডলারের যুক্তরাষ্ট্রের কাছ জ্বালানি তেল কিনতে হবে। প্রতিবছর ৩৫০ কোটি ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনতে হবে। সামরিক সরঞ্জামাদি কেনার পরিমাণ বাড়াতে হবে। অন্য কোনো দেশ, বিশেষ করে চীন থেকে তুলনামূলক কম মূল্যে সামরিক সরঞ্জামাদি কেনা যাবে না। বাংলাদেশের পণ্যের মান বাড়ানো বা কমানো যাবে না এবং পণ্যের মান উন্নয়নের জন্য কোনো ভর্তুকি দেয়া যাবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা যেখানে যেভাবে আছে, তা বাংলাদেশকে মেনে চলতে হবে। আমেরিকা তার নিরাপত্তার জন্য যেভাবে যেমন ব্যবস্থা নেয়, বাংলাদেশকে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ চুক্তির আর্টিক্যাল ৫.৩ অনুযায়ী, মার্কিন চুক্তির কারণে ‘জিরো ট্যারিফ’ সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে এখন ব্যয়বহুল আমেরিকান সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। আর্টিক্যাল ৫.২ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের যে কোনো শিল্প-কলকারখানায় ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করার এখতিয়ার রাখবে। 

বাংলাদেশে উৎপাদিত ৯০ শতাংশ ‘জেনেরিক’ ওষুধের কাঁচামাল আসে বিদেশ থেকে। বাংলাদেশের শত শত ওষুধ কোম্পানি গড়ে উঠেছে ‘জেনেরিক’ ওষুধ উৎপাদন করে, অর্থাৎ কপিরাইট আইনের ছাড় নিয়ে। আমেরিকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো এখন প্যাটেন্ট-ফি পরিশোধ করতে বাধ্য হবে। সংগত কারণে ওষুধের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। দেশের ১৮২টি ফার্মা কোম্পানির বেশিরভাগই ছোট। আমেরিকার শর্তে কঠোর মেধাস্বত্ব আইন কার্যকর হলে ছোট কোম্পানিগুলোর পক্ষে প্যাটেন্ট-ফি দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব। 

এ চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে বাংলাদেশকে আগামী ১৫ বছরে আমেরিকা থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হবে। অর্থাৎ, আগামী তিনটি নির্বাচিত সরকার অনেক বেশি দামে জ্বালানি তেল আমদানির ফাঁদে পড়বে। এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাস খাত উন্নয়ন অর্থাৎ, অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রক্রিয়া ঝুলে যাবে। সেইসঙ্গে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রাপ্ত এমন জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগও থেমে যাবে।

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যকে সহজতর করবে, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত: যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল পণ্যের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকা; ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিশ্বস্তভাবে সীমান্তের ওপারে তথ্যের অবাধ স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং সাইবার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করা। যদি বাংলাদেশ এমন কোনো দেশের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল বাণিজ্য চুক্তিতে যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থকে বিপন্ন করে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে উদ্বেগসমূহ সমাধান করতে ব্যর্থ হলে, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি বাতিল বা নির্বাহী আদেশে শুল্কহার ফের আরোপ করতে পারবে। বাংলাদেশ কোনো শর্ত আরোপ করবে না বা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি কার্যকর করবে না, যা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিদের অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, উৎপাদনপ্রক্রিয়া, সোর্স কোড বা অন্যান্য মালিকানাধীন জ্ঞান হস্তান্তর বা অ্যাকসেস প্রদান করতে বাধ্য করে অথবা তার ভূখণ্ডে ব্যবসা করার শর্ত হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ক্রয়, ব্যবহার বা অগ্রাধিকার দেয়ার প্রয়োজন হয়। 

এসব নেতিবাচক কথার জবাব দিয়েছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির কিছু বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা দিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তার মতে, এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা দূর হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়বে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আসবে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী কী পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি আছে, তা–ও উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এ বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য নয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের ২১ শতকে একটি প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং সেন্টার) পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

একে একটি চমৎকার চুক্তি উল্লেখ করে ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, বাংলাদেশে জ্বালানি চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর জন্য বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে শেভরন, এক্সিলারেট এনার্জি ও জিই ভার্নোভার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগে আগ্রহ রয়েছে। 

এ ছাড়া ১০ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিয়ে বাংলাদেশ এখন দ্রুত ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। এ যাত্রা স্টারলিংক, গুগল পে, ওরাকল, মাইক্রোসফটের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বাস্তব সুযোগ তৈরি করছে। বাণিজ্য চুক্তি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কী কী পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি আছে, তা নিয়েও কথা বলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, চুক্তিতে বাংলাদেশ ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য (গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা) কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। 

এ ছাড়া আগামী ১৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানিপণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। বর্তমানে যে হারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি হচ্ছে, তা অব্যাহত রাখলে এ লক্ষ্য পূরণ হওয়া সম্ভব। আর দুই দেশেই কর্মসংস্থান বাড়াবে ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। চুক্তিটি এতো ভালো হলে রাষ্ট্রদূতের এমন ক্যানভাস করতে হবে কেন? আবার খারাপ হলে সরকারি দল বা বিরোধী দলের চুপ থাকবে কেন? অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং বামপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের একটি অংশ চুক্তিটিকে ‘অসম’ এবং ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিচ্ছে কেন? এসব প্রশ্নের কোনোটিতে না গিয়েও প্রশ্ন থাকছে, সরকার এখন কী করবে? রাখবে না বাতিল করবে? দুটির কোনোটিই কি সহজ? চুক্তিতেই ষাট দিনের মধ্যে তা বাতিলের কথা বলা আছে। এ নিয়ে কি সংসদে আলোচনা করা যায়?  অতীতে বাংলাদেশের সংসদে আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার নজির তেমন নেই। 

তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের যে উদ্যোগ নেয়া হয়, সেই প্রক্রিয়ায় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিল। তখন আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করার ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ আলোচনায় অংশ নেয়া দলগুলো একমত হয়েছিল। এখন কী হবে? এ প্রশ্নের জবাবের অংশ হচ্ছে, ওই চুক্তি অনুযায়ী এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক ক্রয়চুক্তি বৃহস্পতিবার রাতে সই করলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। 

বিমানগুলো কিনতে খরচ হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সামনে কি হবে- তা বোঝা কঠিন নয়। ২০৪১ সালের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।  প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে আসার কথা রয়েছে। এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরের সম্ভাবনা আছে। পরিশেষে, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক না হয়ে বরং তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও জনস্বার্থবিরোধী’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এটি বাণিজ্যের চেয়ে বিনিয়োগ ও সহায়তার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। 

অভিজ্ঞ মহলের মতে, চুক্তি এখনও কার্যকর হয়নি; তাই উভয় দেশের সংসদে অনুমোদন প্রয়োজন। তার আগে বাংলাদেশকে কিছু আইন সংশোধন করতে হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পেশাদার লবিস্ট নিয়োগসহ কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির সংশোধন উদ্যোগ নেয়ার জন্য নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট