ইসরাইলি বাহিনীর ঘুম হারাম, হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’ এখন বড় আতঙ্ক
দক্ষিণ লেবাননের রণক্ষেত্রে ইসরাইলি সেনাদের জন্য নতুন এক ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে হিজবুল্লাহর ‘ফাইবার-অপটিক ড্রোন’। প্রচলিত ড্রোনগুলোকে ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সংকেত বিঘ্নিত করে প্রতিহত করা গেলেও, হিজবুল্লাহর এই নতুন প্রযুক্তির ড্রোন মোকাবিলায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
কেন এই ড্রোন এত বিধ্বংসী?: সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ড্রোনের বিশেষত্ব হলো এর যোগাযোগ ব্যবস্থা। সাধারণ ড্রোনগুলো বেতার সংকেত বা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, যা জ্যামিং প্রযুক্তি দিয়ে অকেজো করা সম্ভব। কিন্তু ফাইবার-অপটিক ড্রোন কোনো বেতার সংকেত ব্যবহার করে না। এটি একটি অত্যন্ত পাতলা ও হালকা ফাইবার-অপটিক তারের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে কোনো সিগন্যাল জ্যামিং একে থামাতে পারে না এবং কোনো ‘ইলেকট্রনিক সিগনেচার’ না থাকায় ড্রোনটি কোথা থেকে চালানো হচ্ছে, তাও শনাক্ত করা অসম্ভব।
রণক্ষেত্রে হিজবুল্লাহর সাফল্য: সম্প্রতি হিজবুল্লাহর প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তাদের একটি ড্রোন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি ইসরাইলি ট্যাংক এবং সেখানে অবস্থানরত সেনাদের ওপর আঘাত হানছে। আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, এ ধরনের ড্রোন হামলায় ১৯ বছর বয়সী সার্জেন্ট ইদান ফুকস নিহত হয়েছেন এবং আরও বেশ কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন। এমনকি আহতদের উদ্ধার করতে আসা হেলিকপ্টার লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ।
অসম যুদ্ধের নতুন কৌশল: সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনের সঙ্গে যুক্ত এই সূক্ষ্ম তারটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার বা তারও বেশি দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর মাধ্যমে অপারেটর নিরাপদ দূরত্বে বসে ড্রোনের ক্যামেরায় উচ্চ রেজুলেশনের লাইভ ভিডিও দেখতে পান এবং লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত করেন। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে প্রথম এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার দেখা গিয়েছিল, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অসহায় ইসরাইলি বাহিনী: ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, এই ড্রোনের বিরুদ্ধে তাদের উন্নত প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো খুব একটা কাজে আসছে না। বর্তমানে তারা ড্রোন ঠেকাতে কেবল জাল বা ফিজিক্যাল ব্যারিয়ারের ওপর নির্ভর করছে, যা শতভাগ কার্যকর নয়। এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, “এটি অসম যুদ্ধের জন্য তৈরি একটি নিম্নপ্রযুক্তির কিন্তু অত্যন্ত প্রাণঘাতী ব্যবস্থা, যার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে আমরা এখনও লড়াই করছি।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি শক্তি বা প্রযুক্তিতে ইসরাইলের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারলেও, হিজবুল্লাহ এখন এই সাশ্রয়ী ও নির্ভুল ড্রোন কৌশলের মাধ্যমে ইসরাইলি বাহিনীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments