Image description

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মুক্ত করতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার থেকেই এই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে ইরানের অবরোধ ভাঙতে সরাসরি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন।

রোববার (৪ মে) নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, প্রণালীতে আটকে পড়া দেশগুলোর অনুরোধে এই অভিযান শুরু করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী দেশগুলোকে ‘নিরপেক্ষ ও নিরীহ দর্শক’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, “ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আমরা ওই দেশগুলোকে জানিয়েছি যে, আমরা তাদের জাহাজগুলোকে এই সীমাবদ্ধ জলপথগুলো থেকে নিরাপদে বের করে আনব, যাতে তারা অবাধে ও দক্ষতার সাথে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারে।” 

তবে ঠিক কোন কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

জাহাজগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, “এই জাহাজগুলোর অনেকগুলোতে খাবার এবং নাবিকদের সুস্থভাবে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।” 

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হলে “দুর্ভাগ্যবশত, অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এদিকে, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সেই যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরান ইতিমধ্যে ট্রাম্পের এই ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালীতে যেকোনো ধরনের “মার্কিন হস্তক্ষেপ” যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। এক এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে তিনি ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ভ্রান্ত ধারণাভিত্তিক’ ও ‘দোষারোপের নাটক’ হিসেবে আখ্যা দেন।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়া শুরু করবে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, “আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে আমাদের সমর্থন অপরিহার্য। পাশাপাশি আমরা নৌ অবরোধও বজায় রাখছি।”

উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল যে, তারা এই সংকীর্ণ জলপথে জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে নিতে প্রস্তুত নয়। তবে ট্রাম্পের নতুন এই নির্দেশের পর মার্কিন সামরিক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শেষ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংঘাতের জন্ম দেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।