কেনিয়ার বিভিন্ন অংশে গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (৪ মে) দেশটির পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চরম ঝুঁকির মুখে থাকা এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কেনিয়া পুলিশের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দেশের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের থারাকা নিথি, এলগেয়ো-মারাকওয়েট এবং কিয়াম্বু কাউন্টিগুলোতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৮ জন মারা গেছেন। ভূমিধসের ফলে বহু পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ঠিক কতজন মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি।
রাজধানী নাইরোবির চিত্রও বেশ ভয়াবহ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, শহরের প্রধান রাস্তাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার মধ্যে দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন গাড়ি ও পথচারীরা। এদিকে বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের বেহাল দশার প্রতিবাদে মাকোঙ্গেনি ও রুয়াই এলাকার ব্যবসায়ীরা রোববার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দাবি, বেহাল রাস্তার কারণে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। তারা জানিয়েছে, অতিবৃষ্টির ফলে দেশজুড়ে ফসল ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বন্যার নোংরা পানি থেকে পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়লো কেনিয়া। এর আগে মার্চ মাসে নাইরোবির কিছু অংশে বন্যায় অন্তত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে মার্চ থেকে মে মাসের বার্ষিক বর্ষাকাল চলছে, যা মে মাসের প্রথমার্ধে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কেনিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে আবহাওয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ চরম আকার ধারণ করছে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)-র দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিভাগের প্রধান ফ্রুজিনা স্ট্রস এক বিবৃতিতে বলেন, “আফ্রিকার শহরগুলোতে পানির চরম অবস্থা—কখনও প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা আবার কখনও তীব্র খরা—ক্রমশ আরও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। শহরগুলোকে দ্রুত এই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।”




Comments