সিনেপর্দায় তিনি ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াকু এক নাম। এবার বাস্তবের রাজনীতির ময়দানেও ‘মহানায়ক’ হিসেবে আবির্ভূত হলেন তামিল সুপারস্টার থালাপতি বিজয়। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে বিজয়ের নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-র দ্বিমুখী আধিপত্য চুরমার করে দিয়ে বিজয় এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই জয় কেবল তার তারকাখ্যাতির ওপর ভিত্তি করে আসেনি; এর পেছনে ছিল সুনিপুণ পরিকল্পনা, মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর থেকে ‘থালাপতি’ হয়ে ওঠার যাত্রাটা ছিল দীর্ঘ তিন দশকের। ১৮ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসা এই অভিনেতা ৬৯টি সিনেমায় অভিনয় করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। পর্দার সেই জনপ্রিয়তাকেই তিনি সুকৌশলে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছেন।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজয় যখন ‘টিভিকে’ গঠন করেন, তখন অনেকেই সংশয়ে ছিলেন। তবে তিনি কোনো বড় দলের সঙ্গে জোটে না গিয়ে একাই পথ চলার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তিনি লক্ষ্য স্থির করেন ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গোছানোর কাজে মনোনিবেশ করেন তিনি। তরুণ ভোটার ও যুবসমাজের একটি বড় অংশকে নিজের দিকে টানতে সক্ষম হওয়া ছিল তার বিজয়ের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে মূলত দুটি আঞ্চলিক দলের মধ্যেই ক্ষমতার পালাবদল হয়ে আসছিল। কিন্তু বিজয়ের ‘এন্ট্রি’ সেই প্রথাগত সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও সরাসরি জনসেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের গ্রহণযোগ্যতা ছিল তুঙ্গে।
আজকের এই নির্বাচনী ফলাফল প্রমাণ করেছে যে, পর্দার জনপ্রিয়তার সঙ্গে যদি সঠিক রাজনৈতিক কৌশল ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ থাকে, তবে যে কোনো অজেয় দুর্গ জয় করা সম্ভব। থালাপতি বিজয় এখন কেবল রূপালি পর্দার নায়ক নন, তামিলনাড়ুর আমজনতার প্রকৃত ‘মহানায়ক’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments