পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ আব্বাসের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে এক পর্যায়ে দ্রুত উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও লেজের সারির ব্যাটারদের দৃঢ়তায় লড়াকু স্কোর পায় স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে খুলনায় ৫৫৫ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ৫৬৫ রান করার রেকর্ড ছিল টাইগারদের। আজ দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত কিছু উইকেট পড়ে গেলেও শেষ ৬ উইকেটে আরও ১১২ রান যোগ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
নিজের জন্মদিনে সেঞ্চুরির স্বপ্ন নিয়ে দিন শুরু করেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর প্রথম ওভারেই সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। অফ স্টাম্পের বাইরের ইনসুইংগারে বোল্ড হওয়ার আগে মুশফিক করেন ১৭৯ বলে ৭১ রান। মুশফিক ফেরার পরের ওভারেই মোহাম্মদ আব্বাসের শর্ট বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইবাদত হোসেন (০)। এই উইকেটের মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন আব্বাস।
এক পর্যায়ে ৩৮৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে বসা বাংলাদেশের ৪০০ রান ছোঁয়া অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু দশম উইকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন তাসকিন আহমেদ। রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। ১১৫তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে সোজা ব্যাটে বিশাল এক ছক্কা মেরে দলের স্কোর ৪০০ পার করেন তাসকিন। তাঁর এই কার্যকরী ইনিংসে ভর করেই শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
এর আগে দিনের প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা। লিটন কুমার দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মিরাজ ১২ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১০ রান করে আউট হন। তাইজুল ইসলামও দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: (প্রথম দিন শেষে ৩০১/৪) ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ (মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, মিরাজ ১০, তাইজুল ১৭, ইবাদত ০, তাসকিন ২৮, নাহিদ ৪*; আফ্রিদি ৩১.১-৮-১১৩-৩, আব্বাস ৩৪-৮-৯২-৫, হাসান ২৬-৫-৭৫-১, সালমান ৬-০-২৫-০, নোমান ২০-০-৮০-১)




Comments