কসবায় বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ১৩ ঘণ্টা পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি হস্তান্তর করা হয়।
নিহতরা হলেন—কসবা উপজেলার বিষ্ণউরি সীমান্তবর্তী ধজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মুরসালিন (২০) এবং মধুপুর গ্রামের মৃত মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধীনস্থ চন্ডিদ্বার বিওপি সংলগ্ন সীমান্ত পিলার ২০৩৭/এম-এর কাছে খিরনাল ভূখণ্ডে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের এই পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শরিফ এবং ভারতের পক্ষে ত্রিপুরা রাজ্যের ফিটকছড়া ব্যাটালিয়ন-৪৯ বিএসএফের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল অজিত কুমার অংশ নেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে বিএসএফ মরদেহ দুটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার (৮ মে) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রায় ১৫ জনের একটি বাংলাদেশি দল চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর সীমান্তের পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করে। ফেরার সময় বিএসএফের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি ছুড়লে মুরসালিন ও নবীর হোসেন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে আগরতলার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন-৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল শরিফ মরদেহ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা জানান, ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফের উপস্থিতিতে মরদেহ দুটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments