Image description

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভায় ডেকে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সাংবাদিকদের তার নির্দেশেই চলতে হবে, অন্যথায় তারা সাংবাদিকতা করতে পারবেন না।

গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলা কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এমপি বলেন, "আমার নির্দেশেই চলতে হবে সাংবাদিকদের। আমি না চাইলে আপনারা সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছর আপনাদের কাউকে নাঙ্গলকোট নিয়ে একটি নিউজ করতে দেখি নাই। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে, আমি যেভাবে চাইব সেভাবেই আপনাদের চলতে হবে।"

সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে বারবার ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করেন। এসময় তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়ে উল্টো ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। অন্য সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে এমপি তাদের ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন এবং তার একক সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য করার জন্য শাসাতে থাকেন। এমনকি এই আচরণের বিষয়ে কেউ সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও প্রদান করেন তিনি।

এমপি মোবাশ্বের তার পাশে বসা সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন দুলালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "উনিও তথাকথিত বিএনপি। উনি আমাকে ফোন করেছেন হাদিয়ার জন্য। উনি আমাকে ফোন করতে পারেন না।" পাশে বসা সাংবাদিক তাজুল ইসলাম ও কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, "এইতো আমার পাশে জামায়াতের আড্ডাখানা বসে আছে। আমি সব জেনেশুনে আজকে বিষপান করতে বসছি।"

মতবিনিময় সভায় এমপি আরও বলেন, "এখানে একজন সাংবাদিকও কিছু লেখেনি। লিখলে নাঙ্গলকোটের এই বেহাল দশা থাকত না।" প্রেসক্লাব সভাপতিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "আপনি ফ্যাসিস্টের দোসর। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রাপ্ত সাবেক এমপি গফুর ভূঁইয়ার পারপাস সার্ভ করেছেন। আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন? আমার কাছে ডকুমেন্ট আছে।"

মজিবুর রহমান মোল্লাকে সাংবাদিকতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এমপি বলেন, "আমি ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষকে বলব আপনাকে বাদ দিয়ে সেখানে বিএনপি-জামায়াতের লোক দেওয়ার জন্য। আমার সাথে চ্যালেঞ্জ করবেন না।" এছাড়া তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, তার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এবং নিজস্ব গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন সংগঠন করা হবে।

এমপির এমন অপদস্থ ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। মান-সম্মানের ভয়ে অনেকে সভায় চুপ থাকলেও পরে সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে সাংবাদিকদের প্রতি এমন হুমকিমূলক ভাষা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মানবকণ্ঠ/ডিআর