সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত গফরগাঁওয়ের যুবকের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৩
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে ছিটকে পড়া গোলার আঘাতে সৌদি আরবে প্রাণ হারালেন আরও এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আল খারিজ শহরে গত ৮ মার্চের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় গুরুতর দগ্ধ আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টায় সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এই নিয়ে একই হামলায় মোট তিনজন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু নিশ্চিত হলো। নিহত মামুন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে আল খারিজ শহরের ‘আল তোয়াইক বলদিয়া’ কোম্পানির একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। বিস্ফোরণের সাথে সাথে পুরো ক্যাম্পে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া এবং টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন নিহত হন। মামুনসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ দিন চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গফরগাঁওয়ে মামুনের বাড়িতে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে সেখানে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একমাত্র সন্তান ও স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। নিহতের মামাতো ভাই শাওন মড়ল বলেন, “ভাইকে বাঁচাতে অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু হলো না। এখন সরকারের কাছে আমাদের একটাই দাবি, তাঁর মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলায় নিহত অপর দুই বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত করেছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments