কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দেশটির ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপ-নির্বাচনের মধ্যে ডলি বেগমের এই জয় প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টিকে সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়েছে। এই বিজয়ের ফলে লিবারেল পার্টির বর্তমান আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪-এ, যা ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারকে স্থিতিশীলভাবে দেশ পরিচালনার সুযোগ করে দেবে।
ডলি বেগম এর আগে এই একই এলাকা থেকে প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য (এমপিপি) হিসেবে টানা তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় তিনি নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দেশের অর্থনীতি ও জনকল্যাণে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে তিনি লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন।
তার এই ঐতিহাসিক বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। এক বার্তায় তিনি বলেন, "ডলি বেগমের এই জয় তার কঠোর পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি তার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। একটি ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।"
ডলি বেগমের আদি বাড়ি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ডলি বেগম তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
টরন্টো প্রবাসী বিশিষ্টজনরা বলছেন, ডলি বেগমের এই সাফল্য কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে এবং নতুন প্রজন্মকে মূলধারার রাজনীতিতে উৎসাহিত করবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments