Image description

ইসলামী জীবনদর্শনে রিজিক কেবল শ্রমের ওপর নির্ভর করে না, বরং তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই।" (সূরা হুদ: ৬)। তবে আল্লাহ কিছু কাজের মাধ্যমে আমাদের রিজিকে বরকত বাড়িয়ে দেন। নিচে সে আমলগুলো আলোচনা করা হলো:

তাকওয়া বা খোদাভীতি অবলম্বন করা

রিজিক বৃদ্ধির প্রধান শর্ত হলো আল্লাহকে ভয় করা এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (বিপদ থেকে বের হওয়ার) পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)।

বেশি বেশি ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা

ইস্তিগফার করলে কেবল গুনাহ মাফ হয় না, বরং এটি রিজিকের দরজা খুলে দেয়। হযরত নূহ (আ.) তাঁর কওমকে বলেছিলেন— "তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন।" (সূরা নূহ: ১০-১২)।

আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা

পারিবারিক ও আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখলে রিজিকে বরকত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি চায় যে তার রিজিক বৃদ্ধি হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ হোক, সে যেন তার আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।" (সহীহ বুখারী)।

শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতা আদায় করা

আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তিনি তা আরও বাড়িয়ে দেন। কুরআনে ঘোষিত হয়েছে— "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব।" (সূরা ইব্রাহিম: ৭)। আলহামদুলিল্লাহ বলার অভ্যাস রিজিক বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম।

তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা

কঠোর পরিশ্রমের পর ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখাকে তাওয়াক্কুল বলে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা যদি আল্লাহর ওপর সঠিক উপায়ে ভরসা করতে, তবে তিনি তোমাদের পাখিদের মতো রিজিক দান করতেন—যারা সকালে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বের হয় এবং সন্ধ্যায় তৃপ্ত হয়ে নীড়ে ফেরে।" (তিরমিজি)।

দান-সদকাহ করা

দান করলে সম্পদ কমে না, বরং বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, তিনি তার প্রতিদান দেন। তিনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।" (সূরা সাবা: ৩৯)। সদকাহ বিপদ আপদ দূর করে এবং সম্পদে বরকত আনে।

বিয়ে করা

অনেক সময় অভাবের ভয়ে মানুষ বিয়ে করতে চায় না। কিন্তু আল্লাহ সামর্থ্যহীনদের বিয়ের মাধ্যমে সচ্ছলতা দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে— "তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করো... তারা যদি অভাবগ্রস্ত হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন।" (সূরা নূর: ৩২)।

হজ ও উমরাহ পালন

সামর্থ্য থাকলে বারবার হজ ও উমরাহ করা অভাব দূর করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা হজ ও উমরাহ পরপর আদায় করো। কেননা এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গুনাহকে এমনভাবে দূর করে দেয়, যেমন হাপর লোহার মরিচা দূর করে।" (তিরমিজি)।

ভোরে কাজের সন্ধান করা

সকালবেলা বরকতের সময়। রাসূলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, "হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতের জন্য ভোরবেলায় বরকত দান করুন।" (আবু দাউদ)। তাই অলসতা ত্যাগ করে দিনের শুরুতেই কাজে নেমে পড়া রিজিক অন্বেষণের সুন্নত পদ্ধতি।

ব্যবসা-বাণিজ্যে সততা অবলম্বন

সৎ ব্যবসায়ীদের রিজিকে আল্লাহ বরকত দেন। ধোঁকা বা মিথ্যার আশ্রয় নিলে বরকত উঠে যায়। নবীজি (সা.) বলেছেন, "সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সাথে থাকবে।" (তিরমিজি)।