Image description

পবিত্র রমজান মাস কেবল উপবাসের মাস নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। বছরের বাকি মাসগুলোর তুলনায় এই মাসের রুটিন একদম আলাদা থাকে। তাই হুট করে রমজান শুরু না করে, আগে থেকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুতি নিলে পুরো মাসের ইবাদতগুলো অনেক সহজ ও ফলপ্রসূ হয়।

রমজানের পূর্ণ বরকত পেতে আপনি যেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন, তা নিয়েই আমাদের আজকের এ আয়োজন। 

মানসিক প্রস্তুতি ও নিয়ত সংশোধন

যেকোনো কাজের মূল ভিত্তি হলো নিয়ত। রমজান আসার আগেই মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করুন। মনে মনে সংকল্প করুন যে, এই রমজানকে আপনি আপনার জীবনের সেরা রমজান হিসেবে কাটাবেন। বিগত দিনের ভুলভ্রান্তির জন্য তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং সুন্দরভাবে ইবাদত করার তৌফিক কামনা করুন।

রমজানের মাসআলা-মাসায়েল জেনে নেওয়া

রোজা ভঙ্গের কারণ, রোজার মাকরূহ দিকসমূহ, তারাবিহ, সেহরি ও ইফতারের সঠিক নিয়মগুলো পুনরায় ঝালিয়ে নিন। বিশেষ করে তারাবিহ এবং সদকাতুল ফিতর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। এতে ইবাদতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।

ইবাদতের একটি রুটিন বা 'চেকলিস্ট' তৈরি করা

রমজানে আমাদের প্রাত্যহিক রুটিন বদলে যায়। তাই আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা তৈরি করুন। যেমন:

  • প্রতিদিন কতটুকু কুরআন তিলাওয়াত করবেন।

  • কোন কোন নফল ইবাদত ও জিকির করবেন।

  • দোয়া ও মোনাজাতের জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দ রাখা।
    একটি লিখিত রুটিন থাকলে সময়ের অপচয় কম হয়।

খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক প্রস্তুতি

রমজান শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকেই ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস কমান। ক্যাফেইন বা চা-কপি পানের অভ্যাস থাকলে তা কমিয়ে আনুন, যাতে রোজার প্রথম দিকে মাথাব্যথা বা ক্লান্তি না হয়। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কেনাকাটা সেরে রাখা

রমজানে কেনাকাটার পেছনে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই চেষ্টা করুন প্রয়োজনীয় মুদি সওদা বা ঈদের কেনাকাটা শাবান মাসেই গুছিয়ে রাখতে। এতে রমজানের মূল্যবান সময় বাজারে না কাটিয়ে ইবাদতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।

কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস শুরু করা

যাঁরা সারা বছর কুরআন পড়তে পারেন না, তাঁরা এখন থেকেই অল্প অল্প করে তিলাওয়াত শুরু করুন। অন্তত প্রতিদিন দুই-তিন পৃষ্ঠা করে পড়লেও রমজানে গিয়ে কুরআন খতম দেওয়া বা নিয়মিত পড়াটা সহজ হয়ে যাবে।

বাজে অভ্যাস ত্যাগের প্রতিজ্ঞা

রমজান হলো পরিবর্তনের মাস। যদি আপনার ধূমপান, মিথ্যা বলা, গিবত করা বা অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের অভ্যাস থাকে, তবে এখন থেকেই তা বর্জন করার অনুশীলন করুন। নিজেকে সংযমী হিসেবে গড়ে তোলার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।

দান-সদকাহ ও যাকাতের পরিকল্পনা

রমজানে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই আপনার যাকাত হিসাব করে রাখা এবং অসহায় মানুষকে সাহায্য করার জন্য একটি বাজেট তৈরি করুন। মনে রাখবেন, রমজান হলো অন্যের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।

সেহরি ও ইফতারের সহজ পরিকল্পনা

ইফতারে অতিরিক্ত আয়োজন না করে পুষ্টিকর ও হালকা খাবারের পরিকল্পনা করুন। পরিবারের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে একটি 'মিল প্ল্যান' তৈরি করলে গৃহিণীদের কষ্ট অনেকটা কমবে এবং তারা ইবাদতের জন্য বাড়তি সময় পাবেন।

রমজান আসে আমাদের জীবনকে বদলে দিতে। আমরা যদি সামান্য প্রস্তুতির মাধ্যমে এই মাসটিকে গ্রহণ করি, তবেই এর আসল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ 'তাকওয়া' বা খোদাভীতি অর্জন করা সম্ভব হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে একটি সুন্দর ও সার্থক রমজান কাটানোর তৌফিক দান করুন। আমিন।