Image description

পবিত্র রমজান মাস শেষ হয়ে গেলেও এর আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এবং ইবাদতের একাগ্রতা সারা বছর ধরে রাখা প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। মনোবিজ্ঞানী চার্লস ডিউহিগ তার ‘দ্য পাওয়ার অব হ্যাবিটস’ বইয়ে দেখিয়েছেন যে, কোনো অভ্যাস স্থায়ী করতে হলে সংকেত, রুটিন এবং পুরস্কার—এই তিনটি ধাপ প্রয়োজন। রমজানের সেই বিশেষ আধ্যাত্মিক ‘পুরস্কার’ বা প্রশান্তি সারা বছর বজায় রাখতে নিচের ৫টি পদ্ধতি অনুসরণ করা যেতে পারে:

১. নফল রোজা ও ইফতারের আয়োজন: রমজানের আমেজ ধরে রাখতে শাওয়াল মাসের ৬ রোজা ছাড়াও সারা বছর মাঝেমধ্যে নফল রোজা রাখা যেতে পারে। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে ছোট পরিসরে ইফতারের আয়োজন করলে সেই সামাজিক ও ধর্মীয় মেলবন্ধন অটুট থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই অপচয় না হয়।

২. মসজিদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক: রমজানে যে মসজিদে নামাজ পড়ে আপনি সবচাইতে বেশি তৃপ্তি পেয়েছেন, অন্তত সপ্তাহে একদিন সেই মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করুন। নিয়মিত একই স্থানে ইবাদত করলে একটি আত্মিক টান তৈরি হয়, যা ইবাদতে মন বসাতে সাহায্য করে।

৩. নিয়মিত ইসলামি আলোচনা শোনা: আপনার পছন্দের কয়েকজন ইসলামি আলোচকের তালিকা তৈরি করুন। অবসর সময়ে তাদের গঠনমূলক আলোচনা শুনুন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অন্তত তিনটি পয়েন্ট ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এটি আপনার আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও অনুপ্রেরণা সজীব রাখবে।

৪. হৃদয়ে দাগ কাটা আয়াতগুলোর তিলাওয়াত: কোরআন তিলাওয়াতের সময় যে আয়াতগুলো আপনার মনকে বেশি নাড়া দিয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে রাখুন। যখনই মানসিকভাবে দুর্বল বা একঘেয়েমি অনুভব করবেন, সেই প্রিয় আয়াতগুলো অর্থসহ বারবার তিলাওয়াত করুন। এটি মনে নতুন করে শক্তি জোগাবে।

৫. সৎ সঙ্গ বা দ্বীনি বন্ধু বজায় রাখা: ইসলাম সবসময় একাকী থাকার চেয়ে সৎ সঙ্গে থাকাকে গুরুত্ব দেয়। রমজানে যাদের সঙ্গে ইবাদত বা সামাজিক কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। ভালো বন্ধুর সাহচর্য ইবাদতের পথে অটল থাকতে এবং অলসতা কাটাতে টনিকের মতো কাজ করে।

সূত্র : অ্যাবাউট ইসলাম

মানবকণ্ঠ/আরআই