Image description

পবিত্র জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি দিন। এ দিনটি ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির জন্য বিশেষ সুযোগ। এই দিনে কিছু আমল নিয়মিত করলে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন সহজ হয়। নিচে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো সহজভাবে দেওয়া হলো:

জুমার দিনের বিশেষ আমলসমূহ:
১. গোসল করা 
জুমার নামাজের আগে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসল করা সুন্নত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করাও উত্তম।

২. ভাল পোশাক পরা
পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা সুন্নত। সম্ভব হলে সাদা পোশাক পরা উত্তম।

৩. আগেভাগে মসজিদে যাওয়া
আগে আগে মসজিদে গেলে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
হাদিসে আছে—প্রথমে গেলে বেশি নেকি, পরে গেলে কম।

৪. সুরা কাহফ তিলাওয়াত করা
জুমার দিনে সূরা কাহফ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি পড়লে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর পাওয়া যায়।

৫. দরুদ শরীফ বেশি বেশি পড়া
নবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৬. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
ইমামের খুতবা চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে শোনা ফরজ। খুতবার সময় কথা বলা বা মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়।

৭. মিসওয়াক করা
দাঁত পরিষ্কার করা সুন্নত। নামাজের আগে মিসওয়াক করলে সওয়াব বেশি।

৮. দোয়া করা 
জুমার দিনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া 
ক. দুনিয়া-আখেরাতে সর্বাধিক কল্যাণ লাভের দোয়া
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ‘রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ, ওয়াকিনা আজাবান্নার।’ অর্থ: ‘হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’ (সুরা বাকারা: ২০১‍)
খ. উত্তম জীবন যাপনের দোয়া
اَللَّهُمَّ اِنِّى أَسْألُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা; ওয়াত তুক্বা; ওয়াল আফাফা; ওয়াল গেনা।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে হেদায়াত কামনা করি এবং আপনার ভয় তথা তাকওয়া কামনা করি এবং আপনার কাছে সতীত্ব তথা নৈতিক পবিত্রতা কামনা করি এবং সম্পদ তথা সামর্থ্য বা সচ্ছলতা কামনা করি।’ (মুসলিম: ২৭২১; তিরমিজি: ৩৪৮৯; ইবনে মাজাহ: ৩৮৩২; মুসনাদে আহমদ: ৩৬৮৪, ৩৮৯৪)
গ. মা-বাবাসহ সকল মুমিনের জন্য দোয়া
رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ উচ্চারণ: ‘রব্বানাগ-ফিরলি ওয়ালি ওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল মুমিনিনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল হিসাব।’ অর্থ: ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব মুমিনকে আপনি সেইদিন ক্ষমা করে দিবেন; যেইদিন হিসাব কায়েম করা হবে।’ (সুরা ইবরাহিম: ৪১)
অনেক আলেমের মতে, দোয়ার জন্য আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়টি গুরুত্বপূর্ণ।

৯. নফল নামাজ পড়া
মসজিদে গিয়ে ২ বা ৪ রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া। জুমার আগে ও পরে সুন্নত নামাজ আদায় করা।

১০. বেশি বেশি জিকির করা
“সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” বেশি বলা। কোরআন তিলাওয়াত ও তাসবিহ পড়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনের বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।