মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে বর্ণিত অন্যতম শিক্ষণীয় ঘটনা হলো ফেরাউনের পতন। ইতিহাসে চরম জালেম ও দাম্ভিক হিসেবে পরিচিত ফেরাউনের সলিল সমাধি ঘটেছিল এই পবিত্র আশুরার দিনেই। সাধারণ মানুষের ধারণা ফেরাউন একজন ব্যক্তির নাম, কিন্তু মূলত ‘ফেরাউন’ বা ‘ফারাও’ ছিল প্রাচীন মিশরের শাসকদের উপাধি।
মহান আল্লাহ হজরত মুসা (আ.)-কে নবুয়ত দিয়ে ফেরাউনকে একত্ববাদের দাওয়াত দিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরাউন ছিল অত্যন্ত অহংকারী। সে নিজেকে মিশরের ‘রব’ বা খোদা দাবি করত। পবিত্র কোরআনের সুরা নাজিয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ফেরাউন মুসা (আ.)-এর দেখানো মহা-নিদর্শনসমূহ দেখেও মিথ্যাচার করেছিল এবং আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধাচরণে লিপ্ত হয়েছিল।
জুলুমের সীমা ছাড়িয়ে গেলে ফেরাউন বনি ইসরাইল জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করে। মুসা (আ.) যখন তাঁর কওমকে নিয়ে মিশর ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন ফেরাউন সসৈন্যে তাদের পিছু ধাওয়া করে। মহান আল্লাহ তখন অলৌকিকভাবে লোহিত সাগরকে দুই ভাগে ভাগ করে মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের পার হওয়ার রাস্তা করে দেন। কিন্তু ফেরাউন ও তার বাহিনী যখন সেই রাস্তায় প্রবেশ করে, তখন আল্লাহ লোহিত সাগরের পানিকে পুনরায় একত্রিত করে দেন। এতে ফেরাউনের পুরো সেনাবাহিনীসহ করুণ মৃত্যু ঘটে।
সুরা ইউনুসে আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, ডুবে মরার আগমুহূর্তে ফেরাউন বিশ্বাস করার কথা বললেও তা কবুল হয়নি। তবে মহান আল্লাহ ফেরাউনের মৃতদেহ রক্ষা করেছিলেন যেন তা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এক বড় নিদর্শন হয়ে থাকে। আজ অবধি মিশরের জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই দেহটি ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে টিকে আছে।
এই ঐতিহাসিক বিজয় ও মুক্তির ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ মহররম তথা আশুরার দিনে। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করে দেখেন যে, ইহুদিরা এই দিনে রোজা পালন করছে। কারণ জানতে চাইলে তারা জানায়, এই দিনে আল্লাহ মুসা (আ.)-কে মুক্তি দিয়েছিলেন এবং ফেরাউনকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। নবীজি (সা.) তখন বলেছিলেন, ‘মুসা (আ.)-এর আদর্শ পালনে আমরাই তাদের চেয়ে বেশি হকদার।’ এরপর থেকে তিনি নিজে রোজা রাখেন এবং উম্মতদের আশুরার রোজা পালনের নির্দেশ দেন। সুন্নত অনুযায়ী আশুরার রোজা দুটি (৯ ও ১০ মহররম অথবা ১০ ও ১১ মহররম) রাখা উত্তম।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments