সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সব অভিযোগ কঠোরভাবে অস্বীকার করে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, সরকারে থাকা অবস্থায় বা জীবনের কোনো পর্যায়েই তিনি এক টাকার দুর্নীতিও করেননি।
আসিফ নজরুল তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তাঁকে নিয়ে নতুন করে কিছু ‘ভিত্তিহীন গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে আমেরিকায় বাড়ি কেনা এবং পরিবারসহ সেখানে স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনো দেশেই আমার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই। আমি চ্যালেঞ্জ করছি—কেউ যদি আমার বিদেশ কোনো সম্পদের প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তা প্রকাশ করুন।’
পোস্টে তিনি তিনটি মূল বক্তব্য তুলে ধরেন:
১. দুর্নীতির অভিযোগ: আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আয়কর দেওয়ার সময় কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি।’
২. স্বজনপ্রীতির অভিযোগ: তিনি দাবি করেন, উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজের পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র অনৈতিক সুবিধা দেননি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, কিন্তু নিজের একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি।’
৩. এলাকাপ্রীতি: তিনি জানান, উপদেষ্টা থাকাকালীন নিজের এলাকার প্রতিও কোনো বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করেননি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের উন্নয়ন এবং লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি সংস্কারের জন্য নিয়মানুগভাবে দাপ্তরিক সহযোগিতা করেছেন।
গুজব সৃষ্টিকারীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাঁকে দমাতে গত ২০ বছর ধরে বহু অপবাদ দেওয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি।
পরিশেষে তিনি লেখেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।’
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments