ইউনূসের উপদেষ্টারা জনস্বার্থ বিরোধী বৈদেশিক চুক্তি করে গেছেন: রাশেদ খাঁন
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে লুটপাট, স্বজনপ্রীতি এবং জনস্বার্থ বিরোধী বৈদেশিক চুক্তি সম্পাদনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন রাজনীতিবিদ রাশেদ খাঁন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বের কারণেই ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালীন সুপরিকল্পিতভাবে সব এনজিও এবং নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘মোটাতাজা’ বা অনৈতিকভাবে লাভবান করেছেন। ১৮ মাসের শাসনামলে কি পরিমাণ দলীয়করণ, তদবির বাণিজ্য ও লুটপাট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানান তিনি। ড. ইউনূসের শাসনামলকে বৈষম্য ও বিভাজনের সময় হিসেবেও আখ্যা দেন রাশেদ।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের কয়েকজন উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ গঠন করা হয়েছিল। এই প্রভাবশালী গোষ্ঠীটি এমন কিছু বৈদেশিক চুক্তি সম্পাদন করে গেছে যা সরাসরি জনস্বার্থ বিরোধী এবং এর খেসারত দেশের মানুষকে দীর্ঘকাল দিতে হবে। রাশেদ খাঁনের মতে, ড. ইউনূসের কাছে দেশের মানুষের চেয়ে বিদেশি স্বার্থই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ড. ইউনূস স্বেচ্ছায় নির্বাচন দিতে চাননি, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখে তাঁর কাছ থেকে নির্বাচন আদায় করে নিতে হয়েছে। রাশেদ আরও বলেন, ‘ড. ইউনূসের মূল পরিকল্পনা ছিল বিএনপিকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করা। তিনি বিদেশে গিয়েও বলেছিলেন যে, একটি দল ছাড়া আর কেউ নির্বাচন চায় না। মূলত নির্বাচন বিরোধী সব প্রচারণার মূলে ছিল তাঁর ঐ কিচেন ক্যাবিনেট।’
পোস্টের শেষ অংশে রাশেদ খাঁন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, তারা এখনো বর্তমান বিএনপি সরকারকে ব্যর্থ করতে সক্রিয় রয়েছে। ড. ইউনূস সরকারের অনেক গোপন ইতিহাস তাঁর জানা আছে এবং সুযোগ বুঝে সেগুলো পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments