Image description

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের প্রভাব এবার ক্রীড়াবিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধের তীব্রতায় ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ এবং চলতি মাসে কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিনালিসিমা’ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা বর্তমান পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কার্ডিফে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) বার্ষিক সভা শেষে ফিফা মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম গণমাধ্যমকে বলেন, "ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা খবর রাখছি। এখন বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় না হলেও ফিফা বিশ্বজুড়ে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।" আগামী ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে ফিফা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে গ্রাফস্ট্রম আশাবাদী যে, নির্ধারিত সময়েই সবকটি দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হবে।

এদিকে, সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে আগামী ২৭ মার্চ কাতারে অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিনালিসিমা’ নিয়ে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনার এই লড়াই মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতায় ভেস্তে যাওয়ার পথে। ইরানের পাল্টা হামলায় কাতার অঞ্চলে মিসাইল আঘাত হানায় ম্যাচটির ভেন্যু নিয়ে নতুন করে চিন্তা করছে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশন।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ জানিয়েছে, স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন কয়েক দিন আগে সই করা চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। কাতারের সঙ্গে ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিটি আর্থিকভাবে লাভজনক হলেও খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমা কোম্পানিগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী দুই পক্ষই বিকল্প ভেন্যু বা ভিন্ন কোনো সমাধান খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কাতারও রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে, যা ফুটবল অঙ্গনে এই স্থবিরতার জন্ম দিয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই