পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পথে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের।
অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও শোনা গেল বিশ্বকাপ নিয়ে নানা ভাবনা ও পরিকল্পনা। কিন্তু মিরাজ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকবেন তো? নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন। তার কথায় মিশে থাকল অনিশ্চয়তার সুর।
গত বছরের জুনে আচমকাই নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে মিরাজকে অধিনায়ক করা হয় এক বছরের জন্য। অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি মজা করে সংবাদকর্মীদের বলেছিলেন, ‘আমি অধিনায়ক হওয়ায় মনে হয় আপনারা খুশি হননি।’ মূলত তার অধিনায়কত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে অনেক প্রশ্ন হওয়াতেই এমনটি মনে হয়েছিল তার।
সময়ের সঙ্গে তার অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরো উচ্চকিত হয়েছে।
দল খুব একটা ভালো করতে পারেনি। তার নিজের পারফরম্যান্সও গত বছর ছিল বিবর্ণ। সর্বশেষ সিরিজে দেশের মাটিতে টার্নিং পিচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় ধরা দিয়েছে বটে। তবে মিরাজের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্নগুলো রয়েই গেছে।
বাংলাদেশের মতো দলে অধিনায়ক পারফর্ম করতে না পারলে দলে তাকে বেশি দিন বয়ে নেওয়া কঠিন। এ কারণে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল মিরাজের কাছে।
এ ব্যাপারে এই স্পিন অলরাউন্ডার বলেন, ‘এটা তো আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন, তাদের সিদ্ধান্ত। তারা এখনো ওই ব্যাপারে আমার সঙ্গে আলোচনা করেননি।
আমার কাছে মনে হয়, যেহেতু এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সিরিজের পরে হয়তো আলোচনা করা হবে বা তাদের সঙ্গে কথা হবে।’
তবে লম্বা সময়ের জন্য যে দায়িত্বে থাকতে চান, সেটি মিরাজ বুঝিয়ে দিলেন পরের কথায়, ‘দেখুন, দলের প্রয়োজনে একজন তো অধিনায়ক থাকবেই। আমার কাছে মনে হয় যে, অধিনায়কত্ব যাকেই দেওয়া হোক না কেন, তাকে সময় দিলে দলটাকে সুন্দরভাবে গড়া যায়।’
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাস্তবতা ভাবনায় রাখলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটি হেরে গেলে মিরাজের অধিনায়কত্ব টিকিয়ে রাখা হবে খুবই কঠিন।
মিরাজের কথা শুনে মনে হয়েছে, তিনি নিজেও তা উপলব্ধি করতে পারছেন, ‘আমাকে যত দিনের জন্য এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, চেষ্টা করব দলটাকে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে। প্রথম দুই সিরিজ ভালো হয়নি, আমরা হেরে গিয়েছি। এরপর সর্বশেষ সিরিজে আমরা কিন্তু জিতেছি।’
মিরাজ আরো বলেন, ‘শুধু আমার জন্য নয়, বাংলাদেশ দলের জন্য এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশ সামনে বিশ্বকাপ খেলবে। বিশ্বকাপে যে-ই অধিনায়ক থাকুক না কেন, প্রথম অগ্রাধিকার বাংলাদেশ দল এবং সামনে বিশ্বকাপে (সরাসরি) কোয়ালিফাই করাটা গুরুত্বপূর্ণ।’




Comments