বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি ও নেতৃত্ব নিয়ে চলমান নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। বিসিবির একাধিক পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রমজান ও ঈদ উদযাপনের কথা বলে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন বুলবুল। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিসিবির নির্বাচন নিয়ে বিতর্কের মুখে তার দীর্ঘ প্রবাস জীবন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিনি হয়তো আর দেশে ফিরবেন না। বিসিবি থেকে ২৬ বা ২৭ মার্চের মধ্যে ফেরার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর তিনি দেশে ফিরলেন।
তবে দেশে ফিরলেও আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সামনে এখন কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে শুরু থেকেই অস্বচ্ছতা ও অবৈধ হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন বঞ্চিত কাউন্সিলর ও সংগঠকরা। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালে বিসিবি সভাপতি নিয়মবহির্ভূতভাবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছে কাউন্সিলরশিপ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এর আগে অনলাইন ও ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এখন তাকে সরাসরি তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে হবে।
আগামী এপ্রিলের প্রথম ভাগে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে বিসিবির বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ এবং আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বের বৈধতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দেশে ফিরলেও এখন তাকে আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতার বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments