বিশ্বসেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির কলকাতা সফর নিয়ে একরাশ আক্ষেপ ও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত ক্রীড়া উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। কলকাতায় মেসিকে ঘিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চরম বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মেসি মাত্র ২৫ মিনিট অবস্থান করেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। শতদ্রু দত্তের দাবি, তৃণমূলের এক নেতার ব্যক্তিগত প্রচারণার লিপ্সা এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই বিশ্বফুটবলের এই মহাতারকাকে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শতদ্রু বলেন, ‘আমি আজ গভীরভাবে অনুতপ্ত। চাইলে অন্য কোথাও এই আয়োজন করে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। কিন্তু জন্মভিটার ফুটবলপ্রেমীদের কথা ভেবেই কলকাতাকে বেছে নিয়েছিলাম। কখনো ভাবিনি একজন অপরিণত নেতার ব্যক্তিগত প্রচারণার মোহে পুরো আন্তর্জাতিক আয়োজনটি পণ্ড হয়ে যাবে।’
ওই ঘটনার পর শতদ্রু দত্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাকে ৩৮ দিন কারাগারে থাকতে হয়। জেল থেকে ফেরার পর তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল ও অযাচিত হস্তক্ষেপই ছিল অনুষ্ঠান ভেস্তে যাওয়ার মূল কারণ।
তিনি জানান, মেসির প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের বীমা ছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকিতে তার কিছু হলে তা ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক লজ্জার কারণ হতো। শতদ্রু বলেন, ‘মাঠে আমলা, রাজনৈতিক নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মিলে হুলস্থুল শুরু করেছিলেন। সবাই সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। আমি বারবার পুলিশকে অনুরোধ করেছি মাঠ খালি করতে, কিন্তু অন্তত এক হাজার পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মেসির নিরাপত্তা দল তাকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।’
শতদ্রু আরও যোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে তিনি বড় বড় ইভেন্ট আয়োজন করছেন, কিন্তু এমন অপেশাদার আচরণ আগে কখনো দেখেননি। তৃণমূল সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই বিশ্বমঞ্চে কলকাতার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments