Image description

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। সোমবার (১১ মে) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. এ কে এম অলি উল্যাকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও প্রখ্যাত ক্রিকেটার হাবিবুল বাশার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ক্রীড়া সংগঠক ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত নোটিশে কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কায় সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় ভারতে টাইগারদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাশঙ্কার কারণে বিসিবি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ নাকচ করে দিলে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় বিসিবি। সে সময়কার ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও জানিয়েছিলেন, খেলোয়াড়দের জীবনের নিরাপত্তা বিবেচনায় এটি ছিল সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল আইপিএল চলাকালীন। ভারতের কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই ঘটনার পর ভারতে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়। সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড বিষয়টি আইসিসিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ করলেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা এবং সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই বর্তমান সরকার এই তদন্ত কমিটি গঠন করল।

মানবকণ্ঠ/আরআই