Image description

মাঠের লড়াইয়ে হারের আগে হার না মানা এক যোদ্ধা ছিলেন তিনি। কোটি মানুষের ভালোবাসা আর ‘মাশরাফি ভাই’ ডাকের সেই চেনা মানুষটি আজ বড়ই একা ও অভিমানী। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কণ্ঠে এখন ঝরছে চরম আক্ষেপ। দেশ ও মাটির টানে রাজনীতিতে নামলেও আজ নিজ জন্মভূমির ওপর এতটাই বিরাগভাজন হয়েছেন যে, মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নড়াইলে না নেওয়ার জন্য বাবার কাছে করুণ অনুরোধ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাশরাফির বাবা গোলাম মুর্তজা ছেলের এমন মানসিক অবস্থা ও পরিবারের বর্তমান করুণ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘মাশরাফিরা ভালো নেই। এক ধরনের জেলখানায় অন্তরিন আছে প্রায় দুই বছর ধরে। সেই হাসিখুশি মাশরাফি আর নেই। সে মনে খুব আঘাত পেয়েছে।’

গোলাম মুর্তজা আরও জানান, চরম অভিমানে মাশরাফি তাঁকে বলেছেন, ‘বাবা, আমি মারা গেলে আমার লাশটা নড়াইলে নিও না।’ নড়াইলবাসীর প্রিয় ‘কৌশিক’ আজ কেন নিজ জন্মভূমির ওপর এমন বিরূপ হলেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবারের বর্তমান আর্থিক অবস্থা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে মাশরাফির বাবা বলেন, ‘আমাদের অবস্থা এখন খুবই করুণ। বলতে গেলে পথের ফকির হওয়ার দশা। আমাদের তো নগদ টাকা-পয়সা কোনোদিনই ছিল না। এখন ধানি জমি আর খামার যা আছে, সেগুলো দিয়ে কোনোমতে দিন পার করছি।’

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনোদিন ধানাই-পানাই বা ধান্দাবাজি করে খাইনি। আমার ছেলে বা আমার পরিবারের কেউ কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত ছিল না, কেউ তা প্রমাণ করতে পারবে না। নিজের শ্রম আর কৃষি কাজ করেই আমাদের চলতে হচ্ছে।’

মাঠের সেই লড়াকু অধিনায়কের এমন মুষড়ে পড়া ও জন্মভূমির প্রতি বিমুখতা ভক্তদের মনে গভীর কষ্টের উদ্রেক করেছে। ৫ আগস্টের পর নড়াইলে মাশরাফির বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তাঁর মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই