‘ব্রাজিল আর আগের মতো নেই’—ম্যাচের আগে জাপানি ফুটবলারের এমন মন্তব্য যেন তাতিয়ে দিয়েছিল সেলেসাওদের। তবে মাঠের লড়াইয়ে শুরুটা মোটেও সুখকর ছিল না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য। এক গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ব্রাজিলকে ঘিরে যখন বড় অঘটনের শঙ্কা জেগেছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার এক ‘জাদুমন্ত্রে’ দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ব্রাজিলের চেহারা, জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে নিশ্চিত হয় শেষ ১৬-র টিকিট।
২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতার রেকর্ড ছিল না ব্রাজিলের। সেই দীর্ঘ আক্ষেপ ঘোচানোর দিনে ম্যাচের নায়ক বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক ক্যাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চকর গোলে জয় নিশ্চিত করেন মার্তিনেল্লি।
এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নেপথ্যে ড্রেসিংরুমের রহস্য ফাঁস করেছেন অধিনায়ক ক্যাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘বিরতির সময় কোচ আমাদের শুধু একটি বার্তাই দিয়েছিলেন—শান্ত থাকতে হবে। আমরা মাথা ঠান্ডা রেখেছিলাম বলেই ইতিহাস বদলে দিতে পেরেছি। বেঞ্চ থেকে এসে মার্তিনেল্লি, এন্ড্রিক ও রায়ানের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে বিশ্বকাপ জিততে হলে এমন দলগত স্পিরিটই দরকার।’
গোলরক্ষক আলিসন বেকারও কোচের প্রশংসা করে বলেন, ‘বিরতির সময় কোচ যেভাবে আমাদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন তা অসাধারণ ছিল। এই ধরনের মুহূর্তে মানসিক অস্থিরতা গ্রাস করে, কিন্তু আমরা একে অপরকে শান্ত রেখেছিলাম।’ ফরোয়ার্ড মার্তিনেল্লির কণ্ঠেও ঝরল আত্মবিশ্বাস, ‘এটাই ব্রাজিল, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা আমাদের সংস্কৃতি। এই জয় আমরা ছিনিয়ে এনেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে কোচ কার্লো আনচেলত্তি বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে একটু আধটু ভুগতে হবেই, এতে নতুনত্বের কিছু নেই। তবে মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখাটাই আসল সাফল্য।’
ব্রাজিলের পরবর্তী লড়াই আগামী ৬ জুলাই রাত ২টায়। নিউ জার্সির বিখ্যাত স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে। আজ রাত ১১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে দল দুটি মুখোমুখি হবে, সেখান থেকেই নির্ধারিত হবে ব্রাজিলের আগামী প্রতিপক্ষ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments