বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের চোখ এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায়। এই সংলাপে অংশ নিতে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
ইসলামাবাদে ইরানের প্রধান আলোচক হলেন সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ, ৬৪, যিনি তেহরানের প্রাক্তন মেয়র এবং যৌবনে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন।
গালিবফ, যিনি তারবিয়াত মোদারেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় ভূগোলে পিএইচডি করেছেন।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এক্স-এ তাঁর স্পষ্টভাষী পোস্টের জন্য ইরানের বাইরে পরিচিতি লাভ করেছেন, যা প্রায়শই তীক্ষ্ণ রসিকতায় ভরা থাকে। এজন্য তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টগুলোও ছিল আলোচনার। যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রান্ত নীতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষকে "গ্যাসের দাম বাড়তে থাকায় খাবার বাদ দিতে হচ্ছে"।
তিনি ট্রাম্পের মতো ভাষা ব্যবহার করে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন নিজের দেশের মানুষের চেয়ে "ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার" দিচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এটি মূলত একটি ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের অংশ ছিল যা সরাসরি মার্কিন জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল
২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তেহরানের মেয়র থাকাকালীন গালিবফ ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার প্রতি উন্মুক্ত মনোভাব। তার কর্মকান্ডে ও কথাবার্তায় সেসময় তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মতো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন এবং লন্ডন-ভিত্তিক ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকাকে বলেছেন: “আমি চাই পশ্চিমারা ইরানের প্রতি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করুক এবং ইরানকে বিশ্বাস করুক, এবং নিশ্চিন্ত থাকুক যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ইরানে রয়েছে।”
গালিবফ ২০০৫, ২০১৩, ২০১৭ এবং ২০২৪ সালে চারবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
উইকিলিকস কর্তৃক প্রকাশিত ফাঁস হওয়া তারবার্তা থেকে জানা যায় যে, মার্কিন কূটনীতিকরা বিশ্বাস করতেন মোজতবা খামেনি গালিবফের রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সমর্থন করেছিলেন। তবে, তার নির্বাচনী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।
ইরানের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তার প্রভাব রয়েছে যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে মোহাম্মদ বাঘের গালিবফের।
সূত্র: আল জাজিরা




Comments