Image description

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইসরায়েলকে এই সময়সীমার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার 'কান' এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের জন্য যে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তা আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।

ইস্তাম্বুল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী বা অনির্দিষ্টকালের আলোচনার পরিবর্তে একটি দ্রুত ও কার্যকর বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে চাইছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রোববারের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ বা নীতি সম্পর্কে ইসরায়েল অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধকারে থাকছে। তারা মূলত গণমাধ্যম ও ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকেই বড় সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে জানতে পারছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের অনুরোধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শর্ত ছিল, তেহরানকে একটি 'একীভূত প্রস্তাব' পেশ করতে হবে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো বিষয়টি এখন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, রোববারের মধ্যে ইরান কোনো গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিতে ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার প্রবল আস্থার সংকটই এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

মানবকণ্ঠ/আরআই