Image description

এক মাসব্যাপী চলা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির পর আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালী। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় বেসামরিক এলাকায় আক্রমণ করে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযোগ—তেহরান ‘উস্কানিহীন’ সংঘাত শুরু করেছে এবং তাদের তিনটি ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের বাহিনী ইউএসএস ট্রাক্সটান, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসনের ওপর একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকা নিয়ে হামলা চালায়। তবে কোনো মার্কিন সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মার্কিন বাহিনী ইরানি সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলোতে সফলভাবে হামলা চালিয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করেছে।

ইরানি সামরিক মুখপাত্রের মতে, “আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী” মার্কিন বাহিনী বন্দর খামির, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যেখানে দেড় লক্ষাধিক মানুষ বাস করে। 

ইরান দাবি করেছে যে, তাদের পাল্টা হামলায় মার্কিন জাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনা শেষে উপকূলীয় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

এই সংঘাতের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুদ্ধবিরতি অক্ষত রয়েছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘটনাকে একটি “স্নেহের টোকা” (love tap) বলে অভিহিত করেছেন। 

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “ওরা আমাদের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছে এবং আমরা ওদের উড়িয়ে দিয়েছি।” একটি চুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “চুক্তি হয়তো হবে না, তবে যেকোনো দিনই হতে পারে।”

এই সংঘর্ষের খবরের পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি এক পৃষ্ঠার স্মারকলিপি বিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক কূটনীতিকদের মতে, ইরান এই মুহূর্তে একটি কূটনৈতিক বিজয় চায়, তবে চুক্তি না হলে তারা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে অবরুদ্ধ ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইরানের ওপর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।

এই নতুন সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।