দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধ বন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই চুক্তি আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এ তথ্য জানিয়েছেন।
চুক্তির বিষয়টি পরে নিশ্চিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ আবারও স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আরও ৬০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
খসড়া সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের স্থগিত থাকা প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করতে পারে। বিনিময়ে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্প্রসারণ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
তবে চুক্তির সব শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবৃতি আসেনি। যদিও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে চুক্তির খবর প্রচার করা হয়েছে এবং একে ইরানের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




Comments